- হ্যাল্লো, জান্টুস! দেরি হলো কেনো ফোন রিসিভ করতে? আমি সেই কখন থেকে ট্রাই করতেছি।
- স্যরি, বাবু! আমি তোমাকে এফ,বি-তে অনলাইন দেখে বাজ দিয়ে বসে ছিলাম। ফোন ছিল ব্যাগে। বুঝবো কি করে বলো? রিংগার, ভাইব্রেশন সবই তো অফ করে রাখতে হয়। তোমার কোন ট্রেইস না পেয়ে এইমাত্র ফোন চেক করলাম।
- ওক্কে, ওক্কে, বুচ্ছি। বাট ফোনটা তুমি চেইক করবা নাহ?
- সুইটু বেইবি, তুমি কিন্তু অলওয়েজ কমপ্লেইন করো। আমার বাসার কথা একদম থিঙ্ক করো না। বাপি মাম্মি যদি জানে আমার কাছে সেলফোন আছে, আমাকে স্ট্রেইট বাসা থেকে বের করে দিবে।
- নো চিন্তা। তখন তুমিও স্ট্রেইট আমার বাসায় চলে আসবে। হেঃ হেঃ হেঃ
- আহ! আহল্লাদে আর বাঁচি না। আর আংকেল আন্টি ব্যান্ড পার্টি নিয়ে তোমাদের গেইটে আমাকে রিসিভ করবে। তাই না, বেইবি?
- করবেই তো। শোন জান্টুস, আজ রাতের স্কাইটা জোস সুন্দর, আই থিংক, পূর্নিমা। মুনটাকে যা লাগতেছে না ছাঁদ থেকে …
- হোয়াট? তুমি ছাঁদে এখন? আর ইউ কিডিং মি?
- কি করবো? তোমার সাথে আমার ফিসফিস করে করে কথা বলতে একটুও ভাল লাগে না। আব্বু ঘুমাতে আরো অনেক দেরি। আম্মু যেই ঘুমাতে গেছে আমি ছাঁদে চলে এসছি। মন খুলে কথা বলতে না পারলে কিছু হইলো?
- সি, ইউ আর এ্যা গাই এন্ড তোমার যা খুশী তুমি করতে পারো।
- ইয়া, ড্যাটস ট্রু। বাট, এইটা তো আমাদের বাসা, আমরাই থাকি। তুমি এখন তোমাদের এ্যাপার্টমেন্টের ছাদে উঠবা আর কে না কে থাকবে …
- আমি ছাদে উঠতেছি নাতো, বাব্বা! জাস্ট বলছি। এ্যাই, তুমি বিকালে বললা যে পরে বলবা কোথায় গেসিলা, বলো এখন …
- আররে আইমানের সাথে ড্রাইভে গেসোলম আশুলিয়ায়।
- তুমি আর আইমান? নাকি প্রীতমীও ছিল?
- আররে আইমান আর প্রীতমী আমাকে ম্যাবস থেকে তুলছে। আইমানের একা ড্রাইভে যেতে ভয় করে।
- শেইম! শেইম! বুঝছো? ওরা ডেইটে যায় আর তুমি ওদের বডিগার্ড।
- ফালতু কথা বলবা নাতো! আজীব! কোইথেক্কে কি?!
- শাট আপ। এই জন্য তুমি তখন আমতা আমতা করতেছিলা। তাইনা? লিসেন, ন্যাও ইউ আর মাই বয়ফ্রেন্ড। তুমি কারো বডিগার্ড হতে পারবা না। বুচ্ছো, আমার কথা। তোমার প্রেসটিজ না থাকতে পারে, বাট আমার আছে। আদারওয়াইজ, ফরগেট মি।
- ওক্কে বাবা। মাফ চাইছি। হইছে? প্লিজ! … [পাঁচ সেকেন্ড] কি কথা বলো না কেন?
- হিসসস… মাম্মির পায়ের সাউন্ড পেলাম মনে হয়। ওয়েট। [চাঁপা গলায়]
- কত্ত যে হাজারটা প্রবলেম! একটু শান্তিতে কথা বলাও যায় না।
- ইউ নো, কোন ভদ্রলোকের বাসাতে মাঝরাতের পর কথা বলা এলাউড না। তুমি লাকি যে আমি তোমার সাথে তাও কথা বলি। বুচ্ছো?
- ক্যান? আমি বলছি নাকি যে তোমার বাপি মাম্মি অভদ্রলোক?
- ইউ ইভেন ডোননো হাউ টু টক উইথ এ্যা গার্ল! আজীব! লিসেন, পৃথিবীতে সভ্যতা, ভব্যতা বলে কিছু ওয়ার্ডস আছে। ওগুলা তো না জেনেই এই ডিকেইডটা কাটাইলা। আই জাস্ট হোপ তুমি এগুলা একটু শিখো এখন।
- জান, আমাদের পিৎজাহাটের ছবিগুলা ফেইসবুকে আপলোড করিইইই? সেইদিন থেকে আইমান আর প্রীতমী অনেকবার রিকোয়েস্ট করছে। তোমার আর আমার ছবিগুলা যা জোস আসছে না!
- করো, বাট সিকিউরিটি য্যানি স্ট্রিক্ট থাকে। আমাদের গ্রুপের বাইরে কেউ য্যানি দেখতে না পায়। আর তুমি রুমপাকে ব্লক করবা তোমার একাউন্ট থেকে। ও কিন্তু আমার মেজ ফুপিকে সব বলে দেয় আমি কই যাই, কি করি, কার কার সাথে মিশি। ওকে একটা লেসন দিতে পারলে যে আমার কি শান্তি লাগতো। ইটস ঠু মাচ!
- আররে তুমি এইটা নিয়ে কোন চিন্তা কইরো না। রুমপাকে আমি পুররা লিমিটেড প্রোফাইল করে রাইখা দিসি। আর দাড়াও, ও যে সাকেরের সাথে ডেইট করে এইটা আমি জানাইতেছি সবাইকে। দেইন, দেইখো কি হয়!
- লাব্বোউ সো মাচ, বেইবি! তুমি এত্তো স্মার্ট। এইটা আমার মাথায়ই আসে নাই।
- লাব্বোউ ঠু, কুইটি পাই! তুমি আমাকে এতোদিনে বুঝলা? ম্যালা দেরি হয়ে গ্যালো না?!
- তুম্মি না বেইশি বেইশি।
- এ্যাই, শোনো … কালকের প্ল্যান কি? আমি পোকা জালালের বায়োলজি প্রাকটিক্যাল ক্লাসটা কইরাই দুপুরে কলেজ থেকে ফুটবো।
- আরে আর বইলো না। রোয়েনা আপা গেইটে এমন টাইট দিয়ে দিসে যে কেউ বের হইতে পারেনা। বাট, আমি কালকে প্রীতমীদের সাথে সাইন্স ফেয়ারের স্টলে থাকবো। দেইন, চান্স পাইলে জুনিয়র সেকশনের ছুটি হলে বের হয়ে যাবো। তুমি ক্রাঞ্চিতে থাইকো, তাইলে আমি এটলিস্ট দোতলায় একবার দেখতে পাবো। তারপর আমি কল দিবো।
- ওহ নো, ক্রাঞ্চির সামনে দাড়াইতে পারবো না। ওইখানে দাড়ালে তোমাদের মেয়েরা বারান্দা থেকে ভ্যাঙ্গায়। আই হেইট ক্রাঞ্চি। আর সব ছ্যাবলা পোলাপাইন ওইখানে গুতাগুতি করে। আমি আইদার হেলভেশিয়ার ভিতরে অর সাগর পাবলিসার্সের সামনে থাকবো।
- তোমার না যত্তো ঢং! এবার সায়েন্স ফেয়ার যদি ওপেন থাকতো তাইলে তো ঠিকই মেয়েদের কলেজে ঢুকতা। তখন তো আর মেয়েদের ভ্যাঙানোর কথা মনে থাকতো না। তুমি না, রিড্ডিকুলাস!
- নো ওয়ে … আমি তোমাদের ভিক্কিদের থেকে একশো হাত দূরে থাকি। ওপেন থাকলেই কী, আমি জীবনেও যাইতাম না।
- এহ! আই নো ইউ বেটার দ্যান এনিওয়ান। থাক, আর কিছু বল্লাম না। লিসেন, থার্সডে কিন্তু লাস্ট কলেজ ডে। দেইন, ঈদের ছুটি হয়ে যাচ্ছে এডভান্স। সো, এইটা মেইক করতে হবে।
- জান্টুস, বলোতো, তুমি ঈদে কি চাও আমার কাছে?
- কিচ্ছু না, মাংকি বেইবি। বাট, আইমান প্রীতমীকে যেই রকম খ্যাত গিফট দেয়, ভুইলাও কোনদিন আমাকে ওইসব দেবার কথা ভাববা না। ড্রেসিডেল, মান্ত্রা থাকতে কই কই থেকে কিনে, গড নোস! আমি তোমার জন্য সোল ডান্স থেকে জোস একটা ব্রাউন ফতুয়া কিনছি। কাল দিবো, বেইবি।
- চলো তাইলে কাল গুলশানের দিকে যাই কলেজ থেকে। দেইন, তুমি চুজ করো যেইটা ভাল লাগে তোমার।
- মাথথা খারাপ নাকি! জ্যাম কিরকম দেখছো? গুলশান যেতে যেতে কলেজ ছুটির টাইম হয়ে যাবে। বেলায়েত ভাই গাড়ী নিয়ে ওয়েট করবে কলেজের সামনে। ফিরবো কিভাবে তখন?! সো, গুলশান প্ল্যান ক্যানসেল।
- ওক্কে দেইন, ছুটিতে একদিন প্রীতমীর বাসার কথা বলে ম্যানেজ করো। এ্যাই, আমার ফোনের চার্জ শেষ মনে হয়, বিপ করতেছে।
- উফঃ যেমন তুমি, তেমন তোমার ফোন। কোননো টাইম সেন্স যদি থাকতো।
- তোমার বাসার লোকগুলার থেকে অনেক বেশি সেন্স, বুঝলা? তোমাকে তো আংকেল-আন্টি এখনো স্পুন ফেড বেইবির মতো ট্রিট করে।
- স্টপ ইট, বাবু। ফোন রাখার আগে এখন কুয়্যারেল করবা?
- স্যরি, জান্টুস হানি। কাল অন্নেক ফান করবো। টেইক কেয়ার।
- টেইক কেয়ার, সুইটু বেইবি। সিয়াহ। উম্মাহ!
- বাই, জান্টুস। উম্মাহ! উম্মাহ! উম্মাহ!
[টুট, টুট, টুট ... সংযোগটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।]
No comments:
Post a Comment